মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে মিথ্যাচার প্রসঙ্গ

BANGLADESH. 1971.

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে কেউ মিথ্যাচার করলে তার শাস্তির বিধান রাখার আইন করার একটা দাবী উঠেছে। সরকার হয়ত আইন করতেও পারে। বাংলাদেশে এরকম কোন আইন হবার কথা শুনলে একটু আতংকে থাকতে হয় কারণ আইনটা অতি উৎসাহীদের কারণে প্রতিক্রিয়াশীল বা দমনপ্রবণ না হয়ে পড়ে। যে কোন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, ঘটনা নিয়ে মিথ্যাচার কোনভাবেই কাম্য নয় এবং এসব ছেড়ে দেয়ারও নয়। ফেইসবুকে আমরা যারা খুব উদার-মুক্তমনাদের দেখি তারাও কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কেউ ভিত্তিহীন মিথ্যাচার করলে মিথ্যাচারীকে আনফ্রেন্ড নয়ত ব্লক করতে দেখি। তার মানে মিথ্যাচারীর বাক-স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই। আমরা যারা অনলাইনে ধর্ম নিয়ে লিখি আমাদের লেখাতেও ধর্মীয় ব্যক্তি ও ঘটনাগুলোর ঐ ধর্মীয় বইয়ে উল্লেখিত রেফারেন্সকে উল্লেখ করে থাকি। শুধু বিশ্লেষণটা আমাদের নিজের। একইভাবে যারা মুক্তিযুদ্ধের ভিন্নমত প্রষণ করবেন তাদের অবশ্যই ঐতিহাসিক দলিল থাকতে হবে। কিন্তু জামাতীদের বইপত্র পড়ে কাঁচা মিথ্যাচার, অর্ধসত্য, তথ্যের বিকৃতি ছাড়া কিছু নেই। বাংলাদেশের জন্ম “ভারত-পাকিস্তানের যুদ্ধের ফসল”- এটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে গায়ের জোরে অস্বীকার করা। এরকম কোন মিথ্যাচার কোন বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের স্বাধীনতার কাতারে পড়ে না। আইনটি হতে হবে মুক্তিযুদ্ধের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক নথিগুলোর বাইরে গিয়ে কোন নতুন তথ্য যার কোন ভিত্তি নেই- এরকম কোন তথ্য হাজির করা যাবে না- সেই ভিত্তিতে। যেমন প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে অস্বীকার করা, সেই সরকারের অধিনে যুদ্ধ করাকে অস্বীকার করা (সম্প্রতি কর্ণেল অলি যেটা প্রায় অস্বীকার করেছেন) এসব কোনভাবেই “ভিন্ন আলোতে” মুক্তিযুদ্ধকে দেখা নয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ লক্ষ ইহুদীকে হত্যা করা হয়েছে- আমি যতদূর জানি এই তথ্যকে ইউরোপে কেউ খাটো করে দেখানোর জন্য আইনের মুখোমুখি হবেন। ইহুদী নিধন হয়নি- এরকম “ভিন্নমত” আইনত নিষিদ্ধ। অথচ ৬০ না হয়ে ৫৫ হাজারও হতে পারে বা ১ লক্ষ্ও হতে পারে সংখ্যাটা- কিন্তু যেটি অফিসিয়ালী ফিক্সড করা হয়েছে সেটিই ইতিহাসের দালিলিক সংখ্যা হিসেবে মানতে হবে। বণু কুরাইযা ইহুদী গোত্রের ৭০০ পুরুষকে নবীজির নেতৃত্বে হত্যা করা হয়েছে এই সংখ্যা আমরা যখন লেখায় উল্লেখ করি তখন হাদিস ও সীরাত গ্রন্থকে রেফারেন্স হিসেবে দেখাই। যেহেতু ওগুলো সহি ইসলামী দলিল তাই আমরা সেই মোতাবেক সংথ্যাটা উল্লেখ করি। যদি আমরা সংখ্যাটা ১ কোটি দেখাই বা গোটাটাই কেউ অস্বীকার করে সেটা হবে তথ্য বিকৃতি বা মিথ্যাচার এবং এর জন্য অবশ্যই দাবীকারীদের দায়ী করা যাবে। কিন্তু ঐতিহাসিক দলিলে উল্লেখ আছে তেমন তথ্য নিয়ে আমার নিজস্ব বিশ্লেষণ, অভিমত অবশ্যই গ্রহণযোগ্য। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কোন ঐতিহাসিক চরিত্রের সমালোচনা অবশ্যই গ্রহণযোগ্য হবে তবে সেই সমালোচনার ভিত্তির দলিল থাকতে হবে। হোন তিনি বঙ্গবন্ধু, মুজিবনগর সরকার, কোন সেক্টর কমান্ডার…। আইনটি যেন “ধর্মানুভূতিতে আঘাত” টাইপ না হয়ে যায়…।

[বি:দ্র: আমার আগের একটা পোস্টে খচ্চর বলেছিলাম তাদের যারা ধান ভানতে শিবের গীত গায় তাদের।]