মাদ্রাসায় চলছে ধর্ষণ মহামারি!

মাদ্রাসায় ধর্ষণ মহামারি চলছে এখন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুললেই দেখা যায় হুজুরদের হাতে, শিক্ষকদের হাতে, অন্য ছাত্রদের হাতে ছাত্ররা ধর্ষিত হচ্ছে। প্রতিদিনই এসব খবর প্রকাশিত হতে থাকে।

এত বড় একটা সামাজিক সমস্যা এখন আর প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের জন্ম দেয় না৷ হাস্যরসের জন্ম দেয়। এটাই বড় ট্রাজেডি।

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা একটা এলিটিস্ট প্রতিষ্ঠান। মধ্যবিত্তদের বানানো শিক্ষাব্যবস্থায় মধ্যবিত্ত ছাড়া আর কারো কথা চিন্তা করা হয় নি। উচ্চবিত্তরা পড়ে আসে বিদেশ থেকে, তারা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে চিন্তিত না। মধ্যবিত্তরা ধর্মীয় শিক্ষা আর সাধারণ শিক্ষা দুই পাঠ্যক্রমেই নিজেদের প্রভাব রেখে চলেছিল এত দিন।

আলিয়া মাদ্রাসা আর সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা মূলত মধ্যবিত্তদের ব্রেইন চাইল্ড। সমাজের দরিদ্র শ্রেণি, এতিমরা তাদের স্থান খুঁজে পায় কওমী মাদ্রাসায়। দান খয়রাতের টাকা, অনুদান, যাকাতের টাকা, কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকা দিয়ে এসব মাদ্রাসা চলে। হতদরিদ্রদের পড়ালেখার স্বপ্ন পূরণ হয় কওমীতে। এতিম যারা, যাদের দুনিয়াতে কেউই নাই, তারাও কওমীর দিকেই ঝুঁকে পরে।

কওমী মাদ্রাসার উপর সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। না পাঠ্যক্রমে, না শিক্ষকদের উপর। কিছুতেই না। কওমী মাদ্রাসার শিক্ষকেরা প্রকাশ্যে দেশবিরোধী আর সরকারবিরোধী কাজ করলেও তাদের কোনো প্রকার শাস্তি হয় না।

দূর্বল এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী যখন জবাবদিহিহীন কওমী হুজুরের কাছে পরে, তখন বুঝাই যায় যে ব্যাপারটা সভ্য হবে না।

মাদ্রাসায় শিশু ধর্ষণের সাথে সমকামিতার কোনো যোগ নেই। সমকামিতা দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির মধ্যকার সম্মতিতে স্থাপিত সম্পর্ক। শিশু ধর্ষণে শিশুর সম্মতি থাকে না৷ এটা শিশুকাম, নির্যাতন। ৬ বছরের বাচ্চাকে বিয়ে করা মুহাম্মদের উম্মতের সুন্নতি কাজ শিশুকাম।

শিশুকামীরা সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে আছে। কিন্তু পশ্চিমা কোনো দেশে যদি আপনি বলেন যে চিহ্নিত শিশুকামীদের আমরা শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে রেখেছিলাম, তাদা আপনাকে পাগল ভাববে। তাদের শিশুকামীরা চিহ্নিত থাকে। তালিকাভুক্ত শিশুকামীরা কোনো এলাকায় গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হয়। তার রেজিস্ট্রি বানানো হয়। বাংলাদেশে উলটা। শিশুকামী সম্মান পায়, মানুষের বাসায় দাওয়াত পায়। শিশুকামীর অপরাধ জেনেও শিশুকামীকে রক্ষা করে মুসলমানরা কারণ অন্য মুমিনের দোষ গোপন করা মুমিনের দায়িত্ব।

ছোট ছোট বাচ্চাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের সাথে এসব পাশবিকতা করে এই হুজুররা। এই ট্রমা নিয়ে এসব বাচ্চাদের সারাজীবন বেঁচে থাকতে হয়। কাজটা কঠিন। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে এমন ট্রমাটাইজড জনগোষ্ঠী ভয়ানক ফল বয়ে আনতে পারে।

সভ্য, কল্যাণরাষ্ট্রে এতিম শিশুদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা রাষ্ট্র নিজে করে থাকে। জনগণ তাদের ভাগের কর পরিশোধ করে, যার একটা ভাগ যায় সামাজিক কল্যাণে। বাংলাদেশের জনগণ কর আদায় করে না। কিন্তু তারা চায় কল্যাণরাষ্ট্রের সুবিধা। তাদের বাইনারী চিন্তা থাকে। রাষ্ট্র করবে, তার আগে পর্যন্ত কওমী মাদ্রাসা নিয়ে সমালোচনা করা যাবে না। সমালোচনা করলেই আপনি নাস্তিক, ইসলাম বিদ্বেষী।