আওয়ামী তেলবাজি ও রাজতন্ত্র

ঠিক যে সময়টিতে ঢাকার সাধারণ স্কুলে পড়া ছেলেমেয়েরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ চাই না, নিরাপদ বাংলাদেশ চাই’ লেখা ফেস্টুন হাতে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল—প্রায় একই সময়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর ছেলের নামে দুইটা ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রের নামকরণ করা হচ্ছিল। সজীব ওয়াজেদ জয় লেখাপড়া করেছেন পশ্চিমের নামকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে, বড় হয়েছেনও পশ্চিমা মূল্যবোধে। এখানে পশ্চিমকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখছি—অন্তত ক্ষমতা ও রাজনীতিতে সামন্ত ধ্যানধারণা ঝেঁড়ে ফেলার ক্ষেত্রে পশ্চিমা দেশগুলো আমাদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে। ভুটানের রাজপূত্র অক্সফোর্ডে পড়েছেন। বাবার মৃত্যুর পর তার যখন রাজা হওয়ার কথা—তিনি দেশে ফিরে ঘোষণা দিলেন যে রাজতন্ত্রকে বিলোপ করে দেবেন। এবং সত্যি সত্যি সেটাই তিনি করলেন—রাজতন্ত্রের বিলোপ ঘটিয়ে নির্বাচন দিয়ে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করলেন। পুরো ব্যাপারটিতে ভুটানের মানুষের যে খুব আগ্রহ ছিল, এমনটা নয়। মূলত হবু রাজার ইচ্ছেতেই এটা হল। কোনও সন্দেহ নেই, তিনি পশ্চিমা উদারনৈতিক মূল্যবোধে প্রভাবিত হয়েই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

মোস্তফা জব্বার মন্ত্রীসভায় পরে ঢুকেছেন, সঙ্গত কারণে তেলবাজিতে তিনি একটু পিছিয়ে ছিলেন। একবারে হাইজাম্প দিতে তিনি প্রস্তাব করে বসলেন—ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র দুটো জয়ের নামে করার। এবং যথারীতি তেলটুকু ওনারা সানন্দে গলাধ্বকরণ করে নিলেন। পশ্চিমে বড় হওয়া এই প্রজন্মের কেউ এতটা আনস্মার্ট হতে পারে—এটা ধারণা করাই কঠিন। একজন প্রধানমন্ত্রীইবা নিজের সন্তানের নামে নামকরনের এসব সস্তা তেলবাজিতে সাড়া দেন—ভাবলে দুঃখ লাগে। কী যে ভাবেন উনারা—এইসব নামকরণে মর্যাদা বাড়ে, মানুষের চোখে সম্মান বাড়ে? মোটেও না। ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে নানান কিছুতে নিজেদের নাম বসানোর ছাপ্পাবাজি মানুষের চোখে আপনাদের হেয় করে কেবল।

বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ পাঠের স্মৃতি এখনো তরতাজা। বইদুটোর অসংখ্য লাইন সারাদিনই মনে পড়তে থাকে। তরুন বঙ্গবন্ধুর চরিত্রের সরলতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও বাস্তববোধ, সত্য উপলব্ধির ক্ষমতা—বিস্ময় জাগায়। অথচ তিনি বড় হয়েছিলেন একটা অনগ্রসর সমাজে, রাজনীতিতে তাঁর হাতেখড়ি হয়েছিল এক ধরণের সাম্প্রদায়িক ডামাডোলের অংশ হয়ে। অথচ সেই তিনি চিন্তাকে কতদূর অগ্রসর করে নিয়ে গিয়েছিলেন! আর তার এত বছর পরে, আরো অনেক অগ্রসর চিন্তা ও মূল্যবোধের ভেতর বড় হয়ে সেই বঙ্গবন্ধুর নাতি চিন্তা ও বৃদ্ধিবৃত্তিতে কত বিস্তর পিছিয়ে আছে! লালন করছে পুরোনো সেই সামন্ত ধ্যান ধারণা মূল্যবোধ—এটা আরো বেশি বিস্ময় জাগায়।

*বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সজীব ওয়াজেদ জয়কে কটুক্তি করার অভিযোগে ইমরান এইচ সরকারের বিরুদ্ধে করা মামলার বাদী ছিলেন। এমনকি হাজিরা দিতে এসে আদালত চত্বরে ইমরান যে হামলার শিকার হন, সেই হামলাতেও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোলাম রব্বানী।